

ওজু ভঙ্গের কারণ কয়টি ও কী কী?
নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওজু নষ্ট হয়ে গেলে পুনরায় ওজু করে ইবাদত করতে হয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ওজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
🕌 ওজু ভঙ্গের প্রধান কারণ
১. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হওয়া
পেশাব, পায়খানা, বায়ু, মযি, ওয়াদি ইত্যাদি বের হলে ওজু ভেঙে যায়।
২. শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া
শরীরের কোনো ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে নির্ধারিত স্থান থেকে গড়িয়ে পড়লে ওজু ভেঙে যায়।
৩. মুখ ভরে বমি হওয়া
মুখ ভরে বমি হলে ওজু ভেঙে যায়। অল্প বমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয়।
৪. অচেতন হয়ে যাওয়া
কেউ অচেতন, জ্ঞানশূন্য বা এমন অবস্থায় চলে গেলে যাতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তার ওজু ভেঙে যায়।
৫. এমনভাবে ঘুমানো যাতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ থাকে না
এমন ঘুম যাতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তা ওজু ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
৬. পাগল বা মাতাল হয়ে যাওয়া
সাময়িকভাবে জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেলে ওজু নষ্ট হয়ে যায়।
৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নামাজের মধ্যে এমনভাবে উচ্চস্বরে হাসলে, যাতে পাশের ব্যক্তি শুনতে পায়, তার নামাজ ও ওজু উভয়ই ভেঙে যায়।
📌 মনে রাখবেন
ওজু ভঙ্গের কিছু মাসআলায় শর্ত ও বিস্তারিত বিধান রয়েছে। বিভিন্ন মাজহাবে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওজু ভেঙেছে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে মাসআলা জেনে নেওয়া উত্তম।
🤲 আল্লাহ আমাদের পবিত্রতা বজায় রেখে সঠিকভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।