নামাজ একজন মুমিনের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, নামাজে দাঁড়ানোর পর মন বিভিন্ন দুনিয়াবি চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে যায়। খুশু-খুযু বা একাগ্রতা অর্জন একটি অনুশীলনের বিষয়। এর জন্য নামাজের আগে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া, ওযু মনোযোগের সঙ্গে সম্পন্ন করা, আযানের উত্তর দেওয়া এবং সময়মতো জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কুরআনের যে আয়াত ও দোয়াগুলো পড়া হয়, সেগুলোর অর্থ বোঝার চেষ্টা করলে নামাজ আরও হৃদয়স্পর্শী হয়ে ওঠে।
নামাজের সময় মনে রাখতে হবে যে আমরা মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং তিনিই আমাদের কথা শুনছেন ও দেখছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত কর যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত এই বিশ্বাস রাখ যে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। এই অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত হলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় এবং ইবাদতের স্বাদও গভীর হয়।
এছাড়াও নামাজে তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে রুকু, সিজদা ও তিলাওয়াত সম্পন্ন করা, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য মনোযোগ নষ্টকারী বিষয় থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত নফল ইবাদত ও জিকিরের অভ্যাস গড়ে তোলা খুশু অর্জনে সহায়ক। আল্লাহ তাআলার নিকট আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত, যেন তিনি আমাদের নামাজকে কবুল করেন এবং তাতে পূর্ণ একাগ্রতা দান করেন। কারণ, প্রকৃত সফলতা সেই মুমিনদের জন্য, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী ও একাগ্রচিত্ত থাকে।