সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি মহান আমানত। তাদেরকে শুধু পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং ছোটবেলা থেকেই ইসলামী আদব-আখলাক, নৈতিকতা এবং দ্বীনের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া প্রত্যেক অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ শিশুর চরিত্র গঠনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো তার শৈশব। এ সময়ে যে শিক্ষা ও অভ্যাস গড়ে ওঠে, তা ভবিষ্যৎ জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে। তাই সন্তানকে ভালো মানুষ ও আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারকেই প্রথম ভূমিকা পালন করতে হবে।
সন্তানদের ইসলামী আদব শেখানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অভিভাবকদের নিজেদের জীবনকে ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করা। শিশুরা উপদেশের চেয়ে বাস্তব আচরণ থেকে বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে। বাবা-মা যদি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, কুরআন তিলাওয়াত করেন, সত্য কথা বলেন, মানুষের সঙ্গে নম্র আচরণ করেন এবং ইসলামী শিষ্টাচার মেনে চলেন, তবে সন্তানরাও স্বাভাবিকভাবেই এসব গুণ আত্মস্থ করতে শুরু করবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য কুরআনের গল্প, নবী-রাসূলদের জীবনী এবং সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ আলোচনা করলে তাদের মাঝে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই সালাম দেওয়া, বড়দের সম্মান করা, ছোটদের স্নেহ করা, খাওয়ার আগে “বিসমিল্লাহ” বলা, ডান হাতে খাওয়া, সত্য কথা বলা, মিথ্যা ও গীবত থেকে দূরে থাকা এবং প্রতিদিনের মাসনুন দোয়াগুলো শেখানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। কোনো ভুল করলে কঠোর শাস্তি না দিয়ে ধৈর্য ও ভালোবাসার সঙ্গে বুঝিয়ে বলা বেশি ফলপ্রসূ। একই সঙ্গে তাদের ভালো কাজের প্রশংসা ও উৎসাহ দিলে তারা আরও আগ্রহের সঙ্গে ইসলামী আদব-আখলাক অনুসরণ করবে।
আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতন থাকা এবং তাদের সামনে উপকারী ইসলামিক বই, শিক্ষামূলক ভিডিও ও কুরআন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। নিয়মিত পারিবারিকভাবে নামাজ আদায়, দোয়া করা এবং ইসলামী আলোচনা করার মাধ্যমে ঘরেই একটি দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এভাবেই ধীরে ধীরে সন্তানদের মধ্যে আল্লাহভীতি, উত্তম চরিত্র, মানবিকতা এবং ইসলামী আদর্শের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে, যা তাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনের সফলতার ভিত্তি হয়ে উঠবে।