দোয়া কবুলের গল্প: আল্লাহ কখনো বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না


একটি গ্রামের এক দরিদ্র যুবকের নাম ছিল আবদুল্লাহ। ছোটবেলায় তার বাবা মারা যান। সংসারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। অনেক কষ্ট করে দিন কাটত। তবুও সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত এবং প্রতিদিন তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর কাছে কাঁদত।
তার একটাই দোয়া ছিল—
“হে আল্লাহ! আমাকে হালাল রিযিক দান করুন এবং এমন ব্যবস্থা করুন যাতে আমি কারো কাছে হাত পাততে না হয়।”
মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গেল। কিন্তু তার অবস্থার তেমন পরিবর্তন হলো না। একদিন শয়তান তার মনে ওয়াসওয়াসা দিল, “এত দোয়া করছ, কোনো লাভ তো হচ্ছে না!”
আবদুল্লাহ মন খারাপ করলেও দোয়া ছাড়ল না। বরং আরও বেশি করে বলতে লাগল,
“হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি চাইলে এক মুহূর্তেই সব বদলে দিতে পারেন। আমি আপনার ওপরই ভরসা করি।”
একদিন পাশের গ্রামের এক ব্যবসায়ীর গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আবদুল্লাহ নিজের কাজ ফেলে তাকে সাহায্য করল। ব্যবসায়ী তার সততা, নম্রতা ও আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ হলেন। কয়েক দিন পর তিনি আবদুল্লাহকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজের প্রস্তাব দিলেন।
আবদুল্লাহ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে লাগল। কিছু বছরের মধ্যেই সে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যক্তি হয়ে উঠল। ব্যবসায়ী নিজের মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিলেন এবং ব্যবসার বড় একটি দায়িত্বও তার হাতে তুলে দিলেন।
এক রাতে তাহাজ্জুদের পর আবদুল্লাহ সিজদায় কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“হে আল্লাহ! আজ বুঝতে পারলাম, আপনি আমার দোয়া সঙ্গে সঙ্গে কবুল করেননি, কারণ আপনি আমার জন্য এর চেয়েও উত্তম কিছু নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।”
তার বৃদ্ধ মা মুচকি হেসে বললেন,
“বাবা, আল্লাহ তিনভাবে দোয়ার জবাব দেন—কখনো সঙ্গে সঙ্গে দেন, কখনো পরে দেন, আর কখনো এর চেয়েও উত্তম কিছু দান করেন। তাই কখনো দোয়া করা বন্ধ করবে না।”
সেদিন থেকে আবদুল্লাহ সবাইকে একটি কথাই বলত—
“দোয়া কখনো বৃথা যায় না। আল্লাহ সবচেয়ে উত্তম সময়ে, সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতিতে বান্দার জন্য যা কল্যাণকর তাই দান করেন।”


শিক্ষা
আল্লাহর কাছে করা কোনো দোয়া বিফলে যায় না।
ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও ইখলাসের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ অবশ্যই উত্তম প্রতিদান দেন।
আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের অন্যতম গুণ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”

— সূরা গাফির, আয়াত ৬০

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ সে গুনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া না করে এবং তাড়াহুড়ো না করে।”
— সহিহ মুসলিম


আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে দোয়া করার এবং তাঁর রহমতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top